শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আপনারা যেমন বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করেন, আপনাদের খাতায় আমি নিজের নাম লেখাতে চাই একজন শ্রমিক হিসেবে। আমি নিজেকে দেশ গড়ার শ্রমিক হিসেবে নিয়োজিত করতে চাই। মন্ত্রী পরিষদের সকল সদস্যের নাম আমি শ্রমিক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে চাই। দেশের মানুষ পরিশ্রম করে যেভাবে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, তাদের সাথে এবং পাশে থেকে আমরাও দেশকে গড়ে তুলতে চাই।
শুক্রবার (১ মে) বিকেলে নয়াপল্টনে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপললেক্ষ আয়োজিত বিএনপির শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বন্ধ কলকারখানা চালু করা হবে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেখেছি কিভাবে দেশের শিল্পকল কারখানাগুলোকে ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং এক পর্যায়ে গিয়ে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে যেসব কল কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে তা পর্যায়ক্রমিকভাবে আবার চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।
তিনি বলেন, ‘শুধু এই বন্ধ কল কারখানা চালু হলেই সকল শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে না। লক্ষ লক্ষ বেকার এই দেশে রয়েছে। তাদের জন্য দেশে আমাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। বিদেশেও বিদেশীয় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
তিনি বিদেশী বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা দেশি ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সাথে এরই ভিতরে আলোপ আলোচনা শুরু করেছি। আমরা তাদেরকে উৎসাহ প্রদান করছি। আমরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। যাতে বিনিয়োগকারীরা এই দেশ দেশে কল কারখানা তৈরি করে। কল কারখানা তৈরি হলে দেশের শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। শ্রমিকরা যদি ভালো থাকে তাহলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। আমরা জানি কৃষকরা যদি ভালো থাকে তাহলেই বাংলাদেশ ভালো থাকবে।
তারেক রহমান বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে। যার ফলে দেশ থেকে দেশের মানুষের স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে।
ঢাকার বিভিন্ন সড়কে যানজট ও জনভোগান্তি কমাতে হকার উচ্ছেদ করা হলেও তাদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, হকারদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ মহানগরীতে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে হকারদের নির্ধারিত স্থানে পুনর্বাসন করা হবে, যাতে তারা নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।
খুলনা গেজেট/এএজে

